সন্দ্বীপের নতুন চর হয়ে উঠছে জনগনের নানামুখী আয়ের উৎস

0
বাদল রায় স্বাধীন ::
জলবায়ু পরিবর্তন বা বৈষ্ণিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারনে বাংলাদেশের অনেক নদী শুকিয়ে যাওয়া কিংবা নদীর নাব্যতা কমে চর জেগে উঠা সকল জায়গায় অভিশাপ হিসেবে দেখা দিলেও সন্দ্বীপের পশ্চিমে জেগে উঠা চর সন্দ্বীপিদের জন্য হয়ে উঠেছে বিশাল আশির্বাদ। বেড়েছে পর্যটন সম্ভাবনা সহ সাধারন জনগন বা জলবায়ু উদ্বাস্তুদের নানা মুখী উপার্জনের উৎস। দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক জোন তৈরির বিপুল সম্ভাবনা।দীর্ঘ ৫০/৬০ ববছর নদী ভাঙ্গনের ফলে যারা মাইগ্রেশন হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে বা বাসা ভাড়া করে থাকতে বাধ্য হয়েছিলো আস্তে আস্তে তাদের ফিরে আসতে দেখা যাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে নতুন আবাস ভুমি। হাজার হাজার একর ভুমি ভেঙ্গে নিয়ে স্রষ্টা যেন ফিরিয়ে দিয়েছে ছিনিয়ে নেওয়া দ্বীগুন সন্দ্বীপ।তৈরি করছে কৃষি ও গবাদি পশু পালনের বিশাল সম্ভাবনা, খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দীগন্ত।তৈরি হতে পারে স্টেডিয়াম, বিমান বন্দর সহ পর্যটকদের আকর্ষনের জন্য ইকো রিসোর্ট।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেই চরে হাজার হাজার গরু,মহিষ,ছাগল, ভেড়ার বিচরন। নারী, পুরুষরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। কেউ চরে ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরছে, কেউ কাঁকড়া ধরছে,কেউ কাটছে গরুর জন্য উড়ি নামক একটি বিশেষ ঘাস, আবার কেউ কেউ গরু, ছাগল পালন করছে,কেউ শাক সব্জি উত্তোলন করছে। কেউ কেউ ইটের কনা সংগ্রহ করছে নিজের ঘর পাকাকরন ও বিক্রির জন্য, কেউ সংগ্রহ করছে বিভিন্ন প্রকার জ্বালানী।
 
এ বিষয়ে অনেকে বলেন আমরা এই লকডাউনে কর্মহীন হয়ে, রিক্সা,ভ্যান চালানো, দিনমজুরি বা বদলা দেওয়া বন্ধ হওয়ায়ার পর এখন মাছ ধরা, কাঁকড়া ধরা ইত্যাদি করে জীবিকা নির্বাহ করছি। নতুন চর আমাদের জন্য হয়ে উঠেছে আশির্বাদ।না হয় এখন না খেয়ে মরতে হতো।
 
কেউ কেউ বলেন সরকার বা বিভিন্ন দাতা সংস্থা এ চরের উন্নয়নে নজর দিলে এটি নিউজিল্যান্ডের মতো গবাদি পশুর অবাধ বিচরন ও দুগ্ধ পন্য তৈরিতে বিশেষ ভুমিকা রাখতো। বিশেষ করে সিডিএসপি এ চরকে দ্রুত উন্নত করতে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন দাতা সংস্থা বা কৃষি বিভাগ রিং বাঁধ দিয়ে চরকে চাষ উপযোগী করার জন্য প্রনোদনা দিয়ে লবন ও পানি সহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের ধান রোপন করে উপার্জন করতে পারে কোটি কোটি টাকা।
 
এ বিষয়ে এক নারী সিবিও সদস্য আক্তারা বেগম বলেন সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে তাদের ঘর নির্মান, অন্ন সংস্থান,শাড়ি, লুঙ্গি থেকে শুরু করে নখ কাটার ব্লেড পর্যন্ত দিচ্ছে। অথচ সন্দ্বীপের ভুমিহীনদের পুর্নবাসনে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। সেটা না করলেও সন্দ্বীপের নদী ভাঙ্গন কবলিতদের আশ্রয়ন প্রকল্প তৈরি বা বর্তমানে গবাদি পশু পালনের যে ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে সেখানে ২/১ টি করে গাভী সহায়তা প্রদান করে দারিদ্রতা নিরসনে অনেক ভুমিকা রাখতে পারে। রোহিঙ্গাদের ৫০ ভাগের এক ভাগ টাকাও খরচ হবেনা তাতে।
 
অন্যদিকে এটি হয়ে উঠেছে উঠতি তরুন যুবাদের বিনোদন ও শরীর চর্চার অন্যতম জায়গা। দেখা যাচ্ছে অনেকে ফুটবল খেলছেন। একজন তরুন বলেন সন্দ্বীপে কোন বিনোদন ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় লক্ষাধীক যুবক বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়া ও নেশাগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এখন জেগে উঠা নতুন চরে যদি একটি স্টেডিয়াম তৈরির দাবী রাখছি আমরা।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে