পুরনো নামেই ফিরছে আফগানিস্তান

0

রাজধানী কাবুল দখলের পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে শিগগিরই তালেবানরা তাদের দেশকে আবারও ইসলামিক আমিরাত অব আফিগানিস্তান ঘোষণা করবে।

রোববার কাবুলে বিনা যুদ্ধে প্রবেশ করে তালেবান প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দলটির একজন নেতার বরাত দিয়ে কয়েকটি সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিন আল জাজিরার সম্প্রচারিত ফুটেজে কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বহু সশস্ত্র যোদ্ধাকে দেখা গেছে, তাদের তালেবান কমান্ডার বলে বর্ণনা করেছে গণমাধ্যমটি।

তালেবানের রাজনৈতিক দপ্তরের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাঈম আল জাজিরা টেলিভিশনকে বলেন, আজ আফগান জনগণ ও মুজাহিদিনদের জন্য একটা মহান দিন। তারা ২০ বছর ধরে তাদের ত্যাগের ও চেষ্টার ফল দেখতে পাচ্ছে।

তিনি জানান, আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি শিগগিরই পরিষ্কার করা হবে। তালেবান বিচ্ছিন্নতার মধ্যে থাকতে চায় না এবং শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আহ্বান জানান তিনি।

নাঈম বলেন, আমরা যা চেয়েছিলাম সেখানে পৌঁছেছি, এটি হচ্ছে আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের স্বনির্ভরতা। অন্য কারও ওপর হামলা চালাতে কাউকে আমাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেব না এবং আমরা অন্যের ক্ষতি করতে চাই না।

তালেবানের ভবিষ্যত সরকারের গঠন কাঠামো আর নাম নির্ধারণ নিয়ে দোহায় বৈঠক চলছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বৈঠক শেষে তারা খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবে।

তালেবানের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের নেতারা দোহায় আলোচনায় ব্যস্ত আছেন। নেতারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আর রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে।

তালেবানের রাজনৈতিক শাখার উপ-প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বারাদার বলেছেন,  এই মুহূর্ত তালেবানের জন্য একটি পরীক্ষা। এই সময়ে আমরা একটি পরীক্ষার মুখোমুখি কারণ দেশের জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন আমাদের।

সোমবার তালেবান তোলো নিউজের চত্বরে প্রবেশ করে নিরাপত্তা রক্ষীদের অস্ত্রশস্ত্র পরীক্ষা করে দেখেছে। তারা সরকারের দেওয়া অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করে নিয়েছে। তোলো নিউজ চত্বরের নিরাপত্তা রক্ষার ব্যাপারে একমত হয়েছে তারা। সেখানকার কর্মীদের সঙ্গে তালেবান কোনো বিরূপ আচরণ করেনি বলে জানা গেছে।

কাবুলের সিংহাসন থেকে তালেবানকে হটানো হয়েছিল ২০০১ সালে। দীর্ঘ ২০ বছর আগ্রাসনের পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। আবারও দৃশ্যপটে তালেবান। ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার অপেক্ষায় আছে তারা। যদিও  সংগঠনটির ক্ষমতা দখলে আফগানিস্তানের নারী অধিকার থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে