ফেরিঘাটে যাত্রীর চাপ, মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস

0

দিনভর পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এবং পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল করতে দেখা গেছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার (৮ মে) সকাল থেকে পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত যানবাহন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি পারাপারের জন্য তিনটি ফেরি রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ওই তিনটি ফেরিও ছাড়া মুশকিল হয়ে পড়েছে।

ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার দিকে মাধবীলতা ফেরিতে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ওঠানোর সময় ওই ফেরিতে অতিরিক্ত যাত্রী উঠে পড়ে। একইভাবে তিন নম্বর ঘাটে থাকা বড় ফেরি কেরামত আলীতে কয়েক’শ যাত্রী উঠে পড়ে। এর ফলে কোনও যানবাহন ওঠানো যায়নি।

বাধ্য হয়ে ওই ফেরিগুলো ঘাটেই আটকে রাখা হয়। দুই ঘণ্টা পর শুধুমাত্র যাত্রী নিয়ে ফেরি কেরামত আলী ও বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ছাড়া হয় দৌলতিয়ার উদ্দেশে। ওই দু’টি ফেরির মত দিনভর অতিরিক্ত যাত্রী দিয়ে ফেরি চালনা করা হয়।

অপরদিকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের জোকারচর, আনালিয়াবাড়ি, হাতিয়া, সল্লা ও এলেঙ্গায় দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এবং পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে রাতে চলছে দূরপাল্লার বাস।

প্রাইভেটকারসহ ব্যক্তিগত গাড়িতে গাদাগাদি করে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ। তাছাড়া বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লার বাসও চলাচল করছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এ সড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার (৭ মে) সকাল ৬টা থেকে শনিবার (৮ মে) সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ২৫ হাজারের অধিক যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে অন্তত ৩০০ বাস। এছাড়া পণ্যপরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন, ব্যক্তিগত ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেল চলাচল করেছে বেশি।

তবে অনেক যাত্রীকে আবার যানবাহন না পেয়ে অপেক্ষারত অবস্থায়ও দেখা গেছে।

এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় রাজশাহীগামী সোহাগ মিয়া নামে এক যাত্রীর  বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা যাবত গাড়ির জন্য রয়েছি। ভাড়া কয়েকগুণ বেশি নিলেও কোনো যানবাহন পাচ্ছি না। রাতেই যে কোনোভাবে আমাকে রাজশাহী ফিরতে হবে।

আকবার আলী নামের এক বাস চালক বলেন, ভোর রাতে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার সময় মামলা খেয়েছি। সারাদিন সিরাজগঞ্জ থেকে এখন আবার ঢাকায় যাচ্ছি। বিভিন্ন চেকপোস্টে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারলে কোনো সমস্যা হয় না। ফাঁকি না দিতে পারলেই মামলা খেতে হয়।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে নির্দেশ অমান্য করে দূরপাল্লার বাস চলাচল করলে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দূরপাল্লার বাস আটকে দেওয়ার কারণে শনিবার দুপুর থেকে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের বঙ্গুবন্ধু সেতু পশ্চিম প্রান্ত থেকে সিরাজগঞ্জের নলকা মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছিল।

রাত পৌনে ৮টার দিকে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. আব্দুল গণি বলেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই দূরপাল্লার বাসগুলো মহাসড়কে চলার চেষ্টা করলে সিরাজগঞ্জে আটকে দেওয়া হয়। অনেকে ফাঁকি দিয়ে গেলেও টোল প্লাজায় গিয়ে আটকে যান। এদের মধ্যে অনেকেই দুদিন হলো এখানে আটকে ছিলেন। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক কারণে দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে দেওয়ার পর মহাসড়কে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

তবে আজকের পর আর কোনো দূরপাল্লার বাস কোনোভাবেই ছাড়া হবে না বলেও জানান ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এছাড়াও শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মা নদীর কান্দিপাড়া, মাওয়া মৎস্য আড়ত সংলগ্ন তীর ও শিমুলিয়াঘাট সংলগ্ন চর থেকে আসা যাত্রীবাহী ৬ ট্রলার আটক করা হয়। এসব ট্রলারে ৭০ জনের অধিক নারী-পুরুষ যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদী পারাপারের চেষ্টা করছিল বলে জানিয়েছে নৌপুলিশ।

মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির জানান, শনিবার ফেরি বন্ধের নির্দেশনার পরও প্রচুর পরিমাণে যাত্রী শিমুলিয়াঘাটে আসতে থাকে। এ সময় বিধিনিষেধ পালনে নদীতে নৌপুলিশের তদারকি চলছিল। এরই মধ্যে দুপুর ও বিকেলে কিছু সংখ্যক যাত্রী ফেরিতে উঠতে না পেরে ট্রলারযোগে পদ্মা পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করে। অভিযান চালিয়ে মাওয়া মৎস্য আড়ত ও কান্দিপাড়া থেকে চারটি এবং শিমুলিয়াঘাট সংলগ্ন চর থেকে দুটি ট্রলার আটক করা হয়।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে