এখনও করোনামুক্ত সেন্টমার্টিন, ভালো নেই মনপুরা-হাতিয়া

0
পাখির চোখে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন

দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত তিনটি দ্বীপ মনপুরা, হাতিয়া ও সেন্টমার্টিন। এই তিন দ্বীপের মধ্যে দুটি দ্বীপে ইতোমধ্যে হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। মনপুরা ও হাতিয়ায় এরইমধ্যে করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এখনও নিরাপদ রয়েছে সেন্টমার্টিন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনপুরা ও হাতিয়ায় মানুষের যাতায়াত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তাই আক্রান্ত বেড়েছে। তবে সেন্টমার্টিনে সব ধরনের যাতায়াত বন্ধ থাকায় এখনও সেখানে করোনার সংক্রমণ ছড়ায়নি।
শুক্রবার (২৬ জুন) ভোলা, নোয়াখালী ও কক্সবাজার সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে তিন দ্বীপ এলাকার যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হয়েছে হাতিয়া ও মনপুরায় আক্রান্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। তবে নৌ-বাহিনীর কড়াকড়িতে সেন্টমার্টিন এখনও নিরাপদ।

মনপুরা দ্বীপ 

প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা। ভোলা জেলা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে সাগরের বুকে নয়নাভিরাম এই দ্বীপের অবস্থান। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনার মোহনায় ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। ৩৭৩ বর্গকিলোমিটার দ্বীপে এখন করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। ২৬ জুন পর্যন্ত এই দ্বীপে ৯ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মনপুরা উপজেলা থেকে ২৫২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ২২১ জনের ফলাফল জানা গেছে। এখন পর্যন্ত ৯ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।’

বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও কীভাবে এই দ্বীপে আক্রান্ত হলো—জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, ঢাকা থেকে মনপুরায় মানুষ এসেছে। এছাড়া বিভিন্ন পেশার খেটে খাওয়া মানুষ জীবিকার তাগিদে বের হন। ভোলায়ও আসেন কেউ কেউ।

এই উপজেলায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে দেওয়া হয়। এছাড়া রোগীদের বাড়িতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগীদের আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার হয় বলেও জানান তিনি। মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিলিন্ডার অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাতটি সিলিন্ডার রাখা হয়েছে।

ভোলা জেলায় ২৬ জুন পর্যন্ত ৩৩৩৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৭৫০ জনের ফলাফল মিলছে। এদের মধ্যে ২২৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তিনজন মারা গেছেন। ভোলার সাতটি উপজেলা কমপ্লেক্সে ৭৮টি এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০০টি সিলিন্ডার রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

হাতিয়ায় আক্রান্ত বাড়ছে

এই তিনটি দ্বীপের মধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপটি সবচেয়ে বড়। আয়তনে ২,১০০ বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপে ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৩ লোক বসবাস করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই দ্বীপবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। এই দ্বীপেও হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। ২৬ জুন পর্যন্ত এই দ্বীপে আক্রান্ত হয়েছে ১৫ জন।

হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ

নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মোমিনুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাতিয়া থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ৩৫৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪৭ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে আক্রান্ত ১৫ জন।’

নোয়াখালী জেলায়  ২৬ জুন পর্যন্ত ১০ হাজার ২২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফল পাওয়া গেছে ৯ হাজার ২৮৬ জনের। এদের মধ্যে আক্রান্ত ১৯০৫ জন। মারা গেছেন ৪২ জন।

এখনও নিরাপদ সেন্টমার্টিন

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা মূল ভূখণ্ডের সর্ব দক্ষিণে এবং কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৭ বর্গকিলোমিটারের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ এটি। মাত্র ৭ হাজার মানুষের বসবাস। টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়ন সেন্টমার্টিন। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর সরকার যখন সাধারণ ছুটি ও গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করছিল তারপর থেকে সেন্টমার্টিনের সঙ্গে বাইরের মানুষের যাতায়াত বন্ধ। নৌবাহিনীর কড়া পাহারায় রয়েছে দ্বীপটি। কেবল অসুস্থ হলে মানুষ এই দ্বীপ থেকে বের হতে পারে। এছাড়া কেউ বের হতে পারে না। ব্যবসায়িক কাজ শেষে কেউ এখানে ফিরলে নৌ-বাহিনীর শরীর চেকআপের মাধ্যমে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এই দ্বীপে এখনও করোনায় আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।

সেন্টমার্টিনে ১০ শয্যার একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। সেখানে একজন চিকিৎসক থাকলেও করোনার কারণে তাকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আর সেন্টমার্টিনের ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার সৈকত হাসান। তিনি সেন্টমার্টিনের করোনা পরিস্থিতি জানান বাংলা ট্রিবিউনকে।

সৈকত হাসান বলেন, সেন্টমার্টিন যথেষ্ট নিরাপদ। এখানে করোনায় এখনও কেউ আক্রান্ত হয়নি। উপসর্গও নেই। গত ১৬ এপ্রিল তিনজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাদের ফলাফল নেগেটিভ। তিনি বলেন, এখান থেকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাইরে থেকে এখানে আসারও সুযোগ নেই।

কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে বলেন, সেন্টমার্টিনে কোনও কেস নেই। আমরা সেন্টমার্টিনকে নিরাপদ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ভৌগোলিক কারণে এই এলাকা নিরাপদ। তারপরও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

কক্সবাজারে ২৬ জুন পর্যন্ত ১৭ হাজার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ২ হাজার ২৪৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৩৭ জন।

সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে